সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের টাকার পাহাড়

  • 209
    Shares

সুইজারল্যান্ডের বিভিন্ন ব্যাংকে (সুইচ ব্যাংকে) দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশিদের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পরিমাণ টাকা গচ্ছিত রয়েছে। ১০ বছরে সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের সঞ্চয় বেড়েছে ১৫৬ শতাংশ। যদিও কালো টাকার বিরুদ্ধে জোরালো অবস্থানে ভারত-পাকিস্তানসহ প্রতিবেশী সব দেশ থেকেই আমানত অনেক কমেছে সুইজারল্যান্ডে। তবুও প্রথম স্থানে রয়েছে ভারত।

২০১৯ সালে দেশটির বিভিন্ন ব্যাংকে বাংলাদেশিদের অর্থের পরিমাণ ৬০ কোটি ৩০ লাখ ফ্রাংক, বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ পাঁচ হাজার ৪২৭ কোটি টাকা। ২০১৮ সালে বাংলাদেশিদের মোট সঞ্চয়ের পরিমাণ ছিল ৬১ কোটি ৭৭ লাখ ফ্র্যাংক; যা বাংলাদেশি মুদ্রায় পাঁচ হাজার ৫৫৩ কোটি টাকা, অর্থাৎ এক বছরে ১২৬ কোটি টাকা কমেছে।

সুইজারল্যান্ডের কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুইস ন্যাশনাল ব্যাংক (এসএনবি) গতকাল বৃহস্পতিবার ‘ব্যাংকস ইন সুইজারল্যান্ড-২০১৮’ শীর্ষক বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। তাতে বাংলাদেশিদের অর্থ জমার এ তথ্য পাওয়া গেছে। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, বিভিন্ন উদ্যোগের ফলে পাকিস্তানিদের ৫০ শতাংশ। কিন্তু বাংলাদেশে সন্তোষজনক হারে কমেনি অর্থপাচার। বাজেটে কালো টাকা সাদা করতে প্রতিবছর নানা সুযোগ দিলেও দেশে বিনিয়োগ না হয়ে অধিকাংশ কালো টাকাই পাচার হয়ে যাচ্ছে। কোনোভাবেই তা নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। তাই অর্থপাচার বন্ধে সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

সুইস ন্যাশনাল ব্যাংকের প্রতিবেদনের তথ্যানুযায়ী, ২০১৭ সালে বাংলাদেশিদের জমা রাখা টাকার পরিমাণ ছিল ৪৮ কোটি ১৩ লাখ সুইস ফ্রাঁ বা চার হাজার ১৬০ কোটি টাকা। ২০১৬ সালের তুলনায় অবশ্য ২০১৭ সালে সুইজারল্যান্ডে বাংলাদেশিদের অর্থ জমার পরিমাণ কমে গিয়েছিল।

তবে অর্থপাচার রোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলছেন অর্থনীতিবিদরা। জানতে চাইলে অর্থনীতি বিশ্লেষক মামুন রশীদ বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গ্লোবাল ফিন্যানশিয়াল ইন্টিগ্রিটির বছরওয়ারী হিসাবে বাংলাদেশ থেকে অর্থ পাচারের এই অঙ্ক গড়ে ৬০ হাজার কোটি টাকা। এখন এই করোনাকালে আমরা যখন জন অর্থায়ন বা ত্রাণের জন্য অর্থ পাচ্ছি না, তখন অনেকেই রব তুলেছেন কেন আমরা এই পাচারকৃত টাকা ফিরিয়ে আনতে পারছি না। দেশে আইনের শাসন ও অর্থনৈতিক সুশাসন নিশ্চিত করা গেলে এমন প্রবণতা কমবে। সেই সঙ্গে দেশের আন্তর্দেশীয় বাণিজ্য, করপোরেট করহার এবং বৈদেশিক মুদ্রার ব্যবস্থাপনা বা নীতিমালাকে অন্যান্য প্রতিযোগী দেশের প্রচলিত নীতিমালার আলোকে যুগোপযোগী এবং সহজ করতে হবে।’

সাধারণত সুইস ব্যাংক অর্থের উৎস গোপন রাখে। এসএনবির তথ্যানুযায়ী, ২০১৪ সালের জাতীয় নির্বাচনের বছরও সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের জমা করা অর্থের পরিমাণ বেড়েছিল। যেমন ২০১৩ সালে বিভিন্ন সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের জমা রাখা অর্থের পরিমাণ ছিল ৩৭ কোটি ১৯ লাখ সুইস ফ্রাঁ, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় তিন হাজার ২১৪ কোটি টাকা। ২০১৪ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ৫১ কোটি সুইস ফ্রাঁ বা চার হাজার ৪০৮ কোটি টাকা।

গবেষণা প্রতিষ্ঠান পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর বলেন, ‘সুইস ব্যাংকগুলোতে এখন আর অর্থ রাখে না সে রকম। টাকা রাখার আরো অনেক জায়গা আছে। বাংলাদেশ থেকে যত টাকা পাচার হয়ে যাচ্ছে সেটা সব সুইস অ্যাকাউন্টে যাচ্ছে না।’ তিনি বলেন, সাধারণত পণ্য আমদানির মাধ্যমেই অর্থাৎ ওভার ইনভয়েসিং এবং আন্ডার ইনভয়েসিংয়ের মাধ্যমে দেশের অর্থ পাচার হয়ে থাকে।

এদিকে জিএফআইয়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৪৮টি উদীয়মান ও উন্নয়নশীল দেশের বেশি অর্থ পাচার হয় চীন থেকে। এ তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান ১৯তম। তবে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে। পাকিস্তানের যাঁরা সুইস ব্যাংকে টাকা রাখেন তাঁরা অনেকেই জেলে আছেন। বাংলাদেশের যাঁরা পাচার করছেন তাঁদের ওপর কোনো চাপ নেই।

#বাংলা প্রবাহ২৪/এএল

,
শর্টলিংকঃ