বাজেটে সুবিধা তুলে নেওয়ায় মোটরসাইকেল খাতে সংকটের আশঙ্কা

  • 45
    Shares

আগামী ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেটে কয়েকটি খাতে মূল্য সংযোজন কর (মূসক/ভ্যাট) অব্যাহতি সুবিধা ও কর অবকাশ রাখা হলেও মোটরসাইকেল খাত থেকে সুবিধাটা তুলে নেওয়া হয়েছে। ফলে মোটরসাইকেলের দাম বাড়তে পারে।

নতুন বাজেটে খাতের কোন আশা পুরণ না করে কিছু সুবিধা তুলে নেওয়া হয়েছে। যা খাতটিকে গভীর সংকটে ফেলবে বলে দাবি করছেন উদ্যোক্তারা।

উদ্যোক্তারা বলেন, বিযুক্ত অবস্থায় (সিকেডি) মোটরসাইকেল আমদানিতে এমন শর্ত এসে গেছে, যাতে বড় বিপাকে পড়বে বেশির ভাগ বড় ব্র্যান্ড। কারণ, কারও পক্ষেই সব মডেলের মোটরসাইকেল দেশে তৈরি করা সম্ভব নয়।

বাজেটের আগে মোটরসাইকেলের কিছু যন্ত্রাংশ আমদানিতে কর কমানোর আশ্বাস পেয়েছিলেন উদ্যোক্তারা। তার কিছুই বাস্তবায়িত হয়নি। নিবন্ধন খরচ কমানো হয়নি।

জানতে চাইলে টিভিএস অটো বাংলাদেশ লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) বিপ্লব কুমার রায় বলেন, ‘আমরা খুব খারাপ অবস্থায় পড়েছি। বুঝতে পারছি না, পরিস্থিতি কী দাঁড়াবে।’

মোটরসাইকেলের দাম কমছিল। বাজারও লাফিয়ে লাফিয়ে বড় হচ্ছিল। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে প্রায় ৫ লাখ মোটরসাইকেল বিক্রি হয়েছে, যা তিন বছর আগেও দেড় লাখ ইউনিট ছিল। মোটরসাইকেল খাতের দুই সংগঠন বিএমএএমএ ও মোটরসাইকেল ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এমএমইএবি) হিসাব অনুযায়ী, এ খাতে বিনিয়োগ হয়েছে প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকা।

জাপানি ও ভারতীয় ব্র্যান্ডগুলোর জন্য বড় দুশ্চিন্তা সিকেডিতে বিধিনিষেধ। এত দিন ব্র্যান্ডগুলো মোটরসাইকেলের যন্ত্রাংশ রং করা অবস্থায় আমদানির সুযোগ পেত। নতুন বাজেটে এ সুবিধা আর রাখা হয়নি। এর মানে হলো, দেশে রং করার কারখানা করতে হবে।

কারখানা করা নিয়ে কোম্পানিগুলোর দ্বিমত নেই। তবে তারা দুটি যুক্তি তুলে ধরছে। এক. এ জন্য দুই বছর সময় দরকার। দুই. নতুন মডেল বাজারে ছেড়ে জনপ্রিয়তা যাচাইয়ের সুযোগ দিতে হবে। এ জন্য সিকেডিতে ছাড় থাকা জরুরি।

জানতে চাইলে এসিআই মোটরসের নির্বাহী পরিচালক সুব্রত রঞ্জন দাস বলেন, ‘আমরা দেশেই রং করার কারখানা করব। সে জন্য এক থেকে দুই বছর সময় দেওয়া হোক।’ তিনি জানান, এক ব্র্যান্ডের একটি মডেলের মোটরসাইকেল উৎপাদন করলে অন্য মডেলগুলোতে কিছুটা ছাড় পাওয়া যেত। দেশে মোটরসাইকেলসহ অন্যান্য খাতে জাপানি বিনিয়োগ আসার সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু সে ক্ষেত্রে সরকারের আশ্বাস বাস্তবায়ন করতে হবে। নীতির চটজলদি পরিবর্তন করা যাবে না।

#বাংলা প্রবাহ২৪/এএল

,
শর্টলিংকঃ