করোনাভাইরাস সম্পর্কে অজানা তথ্য!

  • 328
    Shares

মো. রাজু আহমেদ
করোনাভাইরাস বলতে ভাইরাসের একটা শ্রেণিকে বোঝায় যা স্তন্যপায়ী প্রাণী ও পাখিদের আক্রান্ত করে। এটি ভাইরাসের ৪র্থ গ্রুপের আওতায় নিদুভাইরাস বর্গের অন্তর্ভুক্ত। করোনাভাইরাস শব্দটি ল্যাটিন শব্দ থেকে এসেছে। এর অর্থ মুকুট। দ্বিমাত্রিক স্বসঞ্চালন ইলেকট্রন অণুবীক্ষণ যন্ত্রের ভাইরাসটির আবরন থেকে গদা আকৃতির প্রোটিনের কাঁটাগুলোর কারণে মুকুট বা সৌর করোনার মত দেখায়। সাধারণত প্রানীর দেহ থেকে মানুষের দেহে প্রবেশ করে।

ভাইরাসটির ইতিহাসঃ
এই ভাইরাস সর্বপ্রথম ১৯৬০ সালে আবিষ্কৃত হয়। মানুষের মধ্যে সর্বপ্রথম দুইধরনের ভাইরাস দেখা যায় ১. মনুষ্য করোনাভাইরাস ২২৯ই এবং ২. মনুষ্য করোনাভাইরাস ওসি৩৪। এরপর বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ভাবে করোনাভাইরাস রুপ ধারণ করেছে, ২০০৩, ২০০৪, ২০০৫ ও ২০১২ যথাক্রমে এমএআরএস-সিওভি, এইচসিওভি এনএল৬৩, এইচকেইউ১ ও এমইআরএস- সিওভি।
এছাড়াও ২০১৯ সালে এসএআরএস-সিওভি ২ যাহা নোভেল করোনা ভাইরাস নামে পরিচিত। প্রত্যেকটার লক্ষণ হিসাবে সর্দি কাশি দেখা দেয়।

লক্ষণ সমুহঃ জ্বর, অবসাদ, সর্দি, শুষ্ক কাশি, গলাব্যাথা, বমি হওয়া, শ্বাসকষ্ট, অঙ্গ বিকল হওয়া, মাথা ব্যাথা, পেটের সমস্যা।

যেভাবে ছড়ায়ঃ
ভাইরাসটি কোন এক প্রাণী থেকে মানুষের দেহে প্রবেশ করেছে, এরপর মানুষ থেকে মানুষের শরীরে প্রবেশ করেছে।
সর্বপ্রথম চীনের উহান প্রদেশে নোভেল করোনাভাইরাস লক্ষণে রোগী পাওয়া যায় ৩১ ডিসেম্বর ২০১৯ সালে। ধারণা করা হয়েছে উহানের একটা বাজার থেকে এই ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়েছে। বাজারটিতে মুলত অবৈধ পশুপাখি বিক্রয় করা হত।

সাধারণত একজন রোগীর সংস্পর্শে এসে অন্য রোগীর এই ভাইরাসটি ছড়ায়।
হাঁচি, কাসি, রোগীর ব্যবহৃত পোশাক, সরঞ্জম, তার ব্যবহৃত স্থান, তার স্পর্শকৃত কোন হাতল,জিনিস পত্র ইত্যাদি এর মাধ্যমে এই রোগটি ছড়ায়।

এ অবস্থায় কী করা উচিতঃ জন সমাগম বা লোকালয় এড়িয়ে চলা, কোলাকুলি, হ্যান্ডশেক না করা, যতটুকু সম্ভব দুরত্ব বজায় রাখা, বেশি বেশি সাবান দিয়ে হাত ধোঁয়া, মাস্ক ব্যবহার করতে হবে।

করোনাভাইরাস বর্তমান অবস্থাঃ
বিশ্বব্যাপী:                                              বাংলাদেশ :
মোট আক্রান্ত: ৬০৫৭৮৫৩           মোট আক্রান্ত: ৫৫১৪০
মোট মৃত্যু : ৩৭১১৬৬                          মোট মৃত্যু : ৭৪৬
মোট সুস্থ : ২৮৬২৬১০                        মোট সুস্থ : ১১৫৯০

মোট সংক্রমন এর ১.৩২% রোগী চীন এবং পুরো বিশ্বব্যাপী ৯৮.৬৮% রোগী।

এছাড়া প্রধান চারটি দেশ এর রোগীর আমেরিকা ২৯.২৭%, ব্রাজিল ৮.২০%, রাশিয়া ৬.৬১% এবং ইংল্যান্ড ৪.৩৮%
তথ্যসূত্রঃ worldometro

বয়স অনুযায়ী মৃত্যু এর তালিকা ও হারঃ

বয়স মৃত্যুর সংখ্যা মৃত্যুর হার
০০-১৭ বছর ৯ জন ০.০৬%
১৮-৪৪ বছর ৬০১ জন ৩.৯%
৪৫-৬৪ বছর ৩৪১৩ জন ২২.৪%
৬৫-৭৪ বছর ৩৭৭৮ জন ২৪.৯%
৭৫ বছর ওপরে ৭৪১৯ জন ৪৮.৭%

ওপরের ১৫২৩০ জন এর ওপর চালানো গবেষণা থেকে দেখা ও বোঝা যায় সবচেয়ে বেশি ঝুকিপূর্ণ অবস্থায় আছে সমাজের বৃদ্ধ জনগোষ্ঠী গুলো। সবচেয়ে কম ঝুঁকিতে কিশোর রা।
তথ্যসূত্রঃ worldometro

বয়স ভিত্তিক মৃত্যুর হারঃ

বয়স মৃত্যুর হার
৮০+ ১৪.৮%, ৭০-৭৯ ৮.০%, ৬০-৬৯ ৩.৬%, ৫০-৫৯ ১.৩%, ৪০-৪৯ ০.৪%, ৩০-৩৯ ০.২%, ২০-২৯ ০.২%, ১০-১৯ ০.২%, ০-৯ ০.০০%
মৃত্যুর হার= মোট মৃত্যু / মোট আক্রান্ত

লিঙ্গ ভিত্তিক মৃত্যুর হারঃ
পুরুষ ২.৮%
মহিলা ১.৭%

তথ্যসূত্রঃ বিবিসি ও একাত্তর নিউজ

লেখক, শিক্ষার্থী, ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ ডিপার্টমেন্ট, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়।

#বাংলা প্রবাহ২৪/এএল

শর্টলিংকঃ